ক্রেডিট কার্ড কি ? ক্রেডিট কার্ড কি ভাবে পাবো ?

জানুন ক্রেডিট কার্ড কি এবং ক্রেডিট কার্ড কি ভাবে পাবো এই অদানপ্রদানের উপকারিতা। ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের মধ্যে পার্থক্য, ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা এবং ব্যবহারের নিয়ম জানতে সম্পূর্ণ আর্টিক্যালটি পড়ুন। আপনার অর্থনৈতিক সুরক্ষা ও সুবিধার জন্য ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করুন।

আমরা কতটুকু কাজে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতে পারতে পারি? এটি কি একটি সুলভ ঋণ প্রদানের উপায়? কিভাবে আমরা এটি প্রাপ্ত করতে পারি? এই সমস্ত প্রশ্নের সমাধান দেয়া হবে এই লেখায়, যা ক্রেডিট কার্ড সম্পর্কিত একটি বিস্তারিত আলোচনা করবে।

ক্রেডিট কার্ড কি  ক্রেডিট কার্ড কি ভাবে পাবো

ক্রেডিট কার্ড কি?

ক্রেডিট কার্ড একটি অনলাইন অর্থ পরিসেবা, যা ব্যবসা এবং ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক লেনদেন সম্পাদনের জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি একটি স্থায়ী অথবা একটি অস্থায়ী ক্রেডিট লাইন প্রদান করে যাতে ব্যবহারকারীরা একটি নির্দিষ্ট মানের অর্থ প্রদান করতে পারে।

ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে ব্যক্তি বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান একটি ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক লেনদেন সম্পাদন করতে পারে, যা পণ্য ও পরিষেবা ক্রয় করতে, বিপণি করতে বা অনলাইন লেনদেন সম্পাদন করতে ব্যবহৃত হতে পারে। 

ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী অসীম মেয়াদের মধ্যে অর্থ প্রদান করতে পারে এবং পরিশোধ করতে হবে পরের মাসের মধ্যে বা একটি নির্দিষ্ট সময়কালে।

ক্রেডিট কার্ড কি ভাবে পাবো?

ক্রেডিট কার্ড প্রাপ্ত করার জন্য আপনাকে একটি ক্রেডিট কার্ড কোম্পানির কাছে এপ্লিকেশন দিতে হবে বা আপনি আপনার নির্দিষ্ট ব্যাংকের সাথে সংযোগ করে তাদের কাছে এপ্লিকেশন জমা দিতে পারেন। আপনার আয়, ক্রেডিট রেটিং, এবং অন্যান্য আপনার অর্থনৈতিক পরিস্থিতির তথ্য একত্রে প্রদান করতে হবে। 

অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, ক্রেডিট কার্ড প্রদান করার সিদ্ধান্তগুলি ব্যাংক বা কার্ড প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে নির্ভর করতে পারে এবং তারা আপনার ঋণ পরিস্থিতি, ব্যক্তিগত ইতিহাস, এবং অন্যান্য উপাধিতে ভিন্নতা করতে পারে।

ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের মধ্যে পার্থক্য

সাধারণভাবে, ক্রেডিট কার্ড এবং ডেবিট কার্ড দুটির মধ্যে একটি প্রধান পার্থক্য হ’ল একটি ডেবিট কার্ড আপনি তার ব্যবহারের জন্য যে টাকা তার অ্যাকাউন্টে রাখতে পারবেন, তার চেয়ে কম টাকা থাকতে পারে, আপনি এটি ব্যবহার করতে পারবেন না। 

ডেবিট কার্ড এবং ক্রেডিট কার্ড দুটির মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে, যা আমাদের অর্থনৈতিক প্রণালীতে বৃদ্ধি এনেছে।

ডেবিট কার্ড

কার্যকারিতা:

  • ডেবিট কার্ড একটি ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সাথে যুক্ত থাকে।
  • এটি আপনির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে সরাসরি টাকা উত্তোলন এবং লেনদেনের জন্য ব্যবহার করা হয়।
  • আপনি যত টাকা আছে তাতেই ডেবিট কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন।

সুবিধা:

  • আপনি ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে শপিং করতে, বিল পরিশোধ করতে, অ্যাটএম থেকে টাকা উত্তোলন করতে পারবেন।

পার্থক্য:

  • ডেবিট কার্ডে আপনার অ্যাকাউন্টে থাকা মৌলিক টাকা মৌলিক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
  • ডেবিট কার্ড ব্যবহার করতে হলে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যথাসারণি টাকা থাকতে হবে।

ক্রেডিট কার্ড

কার্যকারিতা:

  • ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে আপনি একটি নির্দিষ্ট মানের ঋণ নিতে পারেন, যা মেয়াদের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।
  • এটি একটি সীমাবদ্ধ ক্রেডিট লাইন প্রদান করে, যা আপনি যত টাকা উপভোগ করতে পারবেন তার মধ্যে।

সুবিধা:

  • ক্রেডিট কার্ড দ্বারা আপনি পণ্য কিনতে, অনলাইন লেনদেন করতে, যাত্রা করতে এবং বিশেষভাবে জরুরী সময়ে অর্থ প্রদান করতে পারবেন।

পার্থক্য:

  • ক্রেডিট কার্ডে আপনি ধারণ করা অর্থ হলো প্রদানকৃত ঋণ, এবং আপনার মাসিক স্টেটমেন্টে আসা মুল্য মেনে নিতে হবে পরিশোধের জন্য।

সমস্ত বিচারে, ডেবিট কার্ড এবং ক্রেডিট কার্ড দুটির ব্যবহার সম্মিলিত অনেক সুবিধা এবং বিষয়গুলি উল্লেখযোগ্য। ব্যক্তিগত অবস্থান এবং আপনার আর্থিক পরিস্থিতির ভিত্তিতে একটি বা দুটি ধরনের কার্ড ব্যবহার করা হতে পারে।

ক্রেডিট কার্ড ডেবিট কার্ড এর বৈশিষ্ট্য

ক্রেডিট কার্ড এবং ডেবিট কার্ডের মধ্যে একাধিক বৈশিষ্ট্য ও পুরস্কার আছে। একটি সারমর্ম তালিকা হলঃ

ক্রেডিট কার্ড কি, ক্রেডিট কার্ড কি ভাবে পাবো

ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা

ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার জন্য যোগ্যতা নির্ধারণ করতে ব্যাংক এবং ক্রেডিট কার্ড প্রদানকারী কম্পানিগুলি নির্ধারণ করে। এটি সাধারণভাবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক যোগ্যতা এবং তথ্যের উপর ভিত্তি করে।

আয়: 

আপনার মাসিক বা বার্ষিক আয় হ’ল একটি গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখযোগ্য যোগ্যতা। এটি বাংলাদেশে বিভিন্ন ব্যাংক এবং ক্রেডিট কার্ড প্রদানকারী কম্পানিগুলির দ্বারা যাচাই হতে পারে।

টিআইএন (জাতীয় পরিচয় পত্র) ও অন্যান্য পরিচয়পত্র: 

সাধারণভাবে, আপনি একটি টিআইএন নম্বর এবং অন্যান্য প্রমাণপত্র দিয়ে আপনার পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে।

চাকরিজীবীদের জন্য: 

আপনি যদি চাকরিজীবী হন, তবে আপনাকে চাকরির নিমিত্তে যে কোনও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট প্রদান করতে হতে পারে, যেমনঃ অ্যাপয়ন্টমেন্ট লেটার বা স্যালারি স্লিপ।

ব্যবসায়ীদের জন্য: 

ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসার নিমিত্তে আবেদন করতে পারে এবং এর জন্য ট্রেড লাইসেন্স, আস্থার মেমোর্যান্ডাম অফ অ্যাসোসিয়েশন এবং তাদের ব্যাংক স্টেটমেন্ট যোগ করতে পারেন।

ব্যাংক স্টেটমেন্ট: 

কিছু ব্যাংক আপনার ক্রেডিট কার্ড প্রদানকারী কম্পানিগুলিকে আপনার ব্যাংক স্টেটমেন্টের জন্য অনুরোধ করতে পারে।

ক্রেডিট রেটিং: 

আপনার ক্রেডিট রেটিং এবং ইতিহাস অসম্পূর্ণ হতে পারে এবং ক্রেডিট কার্ড প্রদানকারী কম্পানিগুলি এটি যাচাই করতে পারে।

এই তথ্যের উপর ভিত্তি করে, ব্যাংক বা ক্রেডিট কার্ড প্রদানকারী কম্পানি আপনার ক্রেডিট কার্ড এর যোগ্যতা নির্ধারণ করতে পারে।

ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের নিয়ম

ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম এবং নির্দেশনা আছে, যা অনুসরণ করতে গুরুত্বপূর্ণ।

১. মাসিক পরিশোধ:

ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করার সময়, সবসময় মাসিক পরিশোধ করতে সতর্ক থাকুন। মাসিক পরিশোধ হলে আপনি কোনো অতিরিক্ত ফি বা জরিমানা মুক্ত থাকতে পারেন।

২. সময়ে মাসিক পরিশোধ:

মাসিক পরিশোধের জন্য সময়ে সময়ে ক্রেডিট কার্ড বিল পরীক্ষা করুন এবং নির্ধারণ করুন যে আপনি সঠিক পরিমাণ অর্থ প্রদান করতে পারছেন। দ্রুত মাসিক পরিশোধ না করলে আপনি অতিরিক্ত জরিমানা দেওয়ার মুখোমুখি হতে পারেন এবং ক্রেডিট রেটিং প্রভাবিত হতে পারে।

৩. অতিরিক্ত খরচ:

ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করার সময় বিশেষ করে সাবধান থাকুন যাতে আপনি অতিরিক্ত খরচ করতে না হয়। এটি ভবিষ্যতে আপনার ঋণের পরিমাণ বাড়াতে পারে এবং আপনি বা আপনার পরিবার প্রভাবিত হতে পারে।

৪. ব্যয়ের রেকর্ড:

আপনার ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের রেকর্ড রাখুন যাতে আপনি আপনার ব্যয় সীমা ছাড়াতে না পারেন। ক্রেডিট কার্ড দিয়ে আপনি আপনার কাছে যে মাসিক বুকেট আছে তা বুঝতে সাহায্য করতে এটি গুরুত্বপূর্ণ।

এই নিয়ম মানলে, আপনি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতে বিশ্বস্ত থাকতে পারবেন এবং আপনার আর্থিক স্থিতি সুরক্ষিত থাকতে সাহায্য করতে পারে।

ক্রেডিট কার্ডের সুবিধা

ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের সাথে সাথে আপনি নিয়মিত প্রদানকৃত সুবিধাগুলি উপভোগ করতে পারেন। এটি আপনার ক্রেডিট রেটিং সুরক্ষিত রাখতে এবং প্রয়োজনে প্রাথমিক ঋণ প্রদানের সুবিধা দেতে পারে। এটি একটি জনপ্রিয় অর্থ প্রদানের উপায় হিসেবে সম্ভাব্য।

সুবিধা:

১. তৎক্ষণাৎ দামি কিছু কেনার ক্ষেত্রে টাকার জন্য কারো দ্বারস্থ হতে হয়না:

ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করলে আপনি তাত্ক্ষণিকভাবে কোন মূল্যবান বস্তু বা পরিষেবা কেনার জন্য টাকা প্রদান করতে পারেন। ক্রেডিট কার্ড সহায়ে প্রাপ্ত করা জিনিস পরবর্তী মাসের বিলে পরিশোধ করা হয়, সেই সময়ে আপনার প্রাপ্ত আয়ের সাথে মেলে যায়।

২. নিরাপদ ব্যবহার:

ক্রেডিট কার্ড বা ডেবিট কার্ড ব্যবহারের তুলনায়, ক্রেডিট কার্ড সাধারণভাবে নিরাপদ এবং প্রাপ্তি ক্ষমতা দেয়। প্রাপ্তি ক্ষমতার মাধ্যমে আপনি কেনাকাটা করতে পারতে এবং এর সাথে কোনো অসুবিধা না হলে প্রাপ্ত করা জিনিসের বিল পরিশোধ করতে পারতে। এটি আপনার অনেক নিরাপদতা ও আর্থিক সুরক্ষা প্রদান করে।

৩. কোনো অসমঝোতা থাকলে রিফান্ড রিকোয়েস্ট:

ক্রেডিট কার্ডে কোনো সমস্যা বা অসমঝোতা হলে ক্রেডিট কার্ড কোম্পানি সহায়ে থাকে। যদি আপনি কোনো ট্রানজেকশনে সমস্যা বা অসমঝোতা মোকাবিলা করতে চান, ক্রেডিট কার্ডের সহায়ে তা সহজভাবে করা যায়। এটি ক্রেডিট কার্ড হোল্ডারকে সক্ষম করে দেয় যে তার অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।

৪. ক্রেডিট কার্ড থেকে রিওয়ার্ড প্রাপ্তি:

কোনো কার্ডে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ব্যয় করলে আপনি আবার কার্ড কোম্পানি থেকে বিভিন্ন রিওয়ার্ড অর্জন করতে পারেন, যা অতি সুবিধাজনক হতে পারে। এই রিওয়ার্ড বোনাস, ক্যাশব্যাক, এয়ারমাইল, অথবা অন্যান্য সুবিধা হতে পারে।

অসুবিধা:

১. অতিরিক্ত খরচ:

ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করলে অতিরিক্ত খরচ করতে হতে পারে, যা আপনার অর্থায়নে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। কেনাকাটা থেকে উপার্জন করা বা অধিক ঋণ প্রদানে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করা হলে আপনি জোরাদিন অতিরিক্ত খরচের মুখোমুখি হতে পারেন।

২. সুদের ভারবহুল প্রদান:

যদি আপনি ক্রেডিট কার্ডে বিল সময়ে পরিশোধ না করেন তবে একটি অতিরিক্ত সুদ হিসেবে দেওয়া হতে পারে। এই সুদ সমৃদ্ধি হতে পারে এবং অসম্ভাব্য উদ্যোগ করতে পারে।

৩. ঋণে পড়ার পুর্বে খোলা থাকা:

যদি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করা না সত্ত্বেও যে কোন সময়ে অপুরণ করা হতে পারে, যা আপনার অর্থায়নে অসুবিধা সৃষ্টি করতে পারে।

৪. সাহায্য না পেতে:

ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে যদি আপনি অবস্থান হওয়ার জন্য যোগ্য না হন বা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে অস্বস্তি অনুভব করেন, তবে অতিরিক্ত দক্ষতা এবং যোগ্যতা অথবা অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য না থাকার জন্য আপনি ক্রেডিট কার্ড প্রদানকারী কম্পানি থেকে সাহায্য পেতে পারেন না।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু টিপস

ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের প্রস্তুতির জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস:

  • নিজেকে মাসিক বুলেটিন অনুসরণ করুন এবং সময়ে পরিশোধ করুন।
  • অবশ্যই আপনার ব্যয় সীমা মেনে চলুন এবং কোনও অতিরিক্ত খরচ করতে বিরত থাকুন।
  • আপনি যদি কোনও অতিরিক্ত সাহায্যের প্রয়োজন হয়, তবে ক্রেডিট কার্ড কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করুন।
  • আপনার ক্রেডিট কার্ড বিবরণ নির্দিষ্টভাবে মূল্যায়ন করুন এবং আপনি যদি কোনও অস্তিত্ব সংশোধন করতে হয়, তবে তা তাৎক্ষণিকভাবে করুন।

উপসংহার:

এই লেখাটি দ্বারা, আমরা দেখেছি কিভাবে ক্রেডিট কার্ড একটি অনলাইন অর্থ পরিসেবা হিসেবে কাজ করে এবং কীভাবে আমরা এটি প্রাপ্ত করতে পারি। আমরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা এবং টিপস পেয়েছি যা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদের জন্য কাজে লাগতে পারে এবং এই সুবিধাটি সঠিকভাবে ব্যবহার করার জন্য সাহায্য করতে পারে।

Leave a Comment